চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের আদার বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা ও ড্রেজার ধ্বংসের পরও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৬ আগস্ট প্রশাসনের অভিযানের পরদিনই আবারও অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিভিন্ন জায়গা ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরহরিরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে নদী ও পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় জমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চরহরিরামপুর ইউনিয়নের মধ্যশালেপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এক বিঘারও বেশি জায়গা ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ মোল্লার ছোট ভাই ফারুক হোসেন মোল্লা এবং নয়ন মোল্লার ছেলে আসলাম মোল্লার সংশ্লিষ্টতায় এসব জায়গা ভরাটের কাজ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া একই এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহর মুন্সির ছেলে নুরু মুন্সি এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তারা ফকিরের ছেলে রুবেল ফকিরের জায়গাতেও ড্রেজার দিয়ে ভরাটের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
অন্যদিকে চর সালেপুর এলাকায় সাংবাদিক আবুল কালামের জায়গা জোরপূর্বক ড্রেজার দিয়ে ভরাটের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল বারি খানের ছেলে ফেরদৌস খান সেখানে ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২৬ আগস্ট চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত চরহরিরামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আসলাম মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়।
তবে অভিযানের পরদিনই ফের ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পরও একটি চক্র কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে পুনরায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ও আশপাশের জমিতে ভাঙনসহ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া জমি ভরাটের কারণে স্থানীয়ভাবে বিরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা নয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুনরায় যাতে কেউ অবৈধ ড্রেজার বসাতে না পারে, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হোক।