চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বাদুল্যা মাতুব্বরের ডাঙ্গী এলাকায় সরকারি খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভরাট করা অংশের বালু সরিয়ে সরকারি খালটি অবমুক্ত করার জন্য চার দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।
অভিযুক্ত সাইদ আলী মোল্যাকে সতর্ক করে ইউএনও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভরাট করা জায়গা থেকে বালু সরিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে। আগামী রবিবার তিনি পুনরায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসবেন। ওই সময় পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি জায়গা উদ্ধারসহ জরিমানা আরোপ করা হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টির সাক্ষী রাখেন ইউএনও।
এর আগে গত ৯ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, বাদুল্যা মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বীজসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সাইদ আলী মোল্যা, পিতা—হাতেম মোল্যা, গত কয়েক মাস ধরে সরকারি খালে বালু ফেলে ভরাট করে জায়গাটি ভোগদখলের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খালটি ভরাটের কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে খালের অপর প্রান্তের প্রায় ৮০০ মিটার এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছি ও সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
অভিযোগকারী সাংবাদিক মোস্তফা কামাল বলেন, “সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখল করার সুযোগ নেই। খালটি ভরাটের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সরকারি খাল উদ্ধার এবং দখল-ভরাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় ইউএনও মহোদয় বিষয়টি আমলে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সরকারি খালের অংশ ছেড়ে দিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি খালটি দ্রুত দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।