নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও নদীর প্রবল স্রোতের কারণে ইউনিয়নের শয়তানখালী ও মুন্সিরচর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইতোমধ্যে অন্তত ২০টি বসতবাড়ি, একটি ইটভাটা, বেশ কয়েকটি দোকানপাট, কয়েক কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ শুরু হওয়া এ ভাঙনে নদীপাড়ের শত শত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের ধারণা, আকস্মিক এই দুর্যোগে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, পদ্মা নদী প্রতিদিনই নতুন নতুন বসতভিটা ও আবাদি জমি গ্রাস করছে। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, অনেকেই ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। নিরাপত্তার খোঁজে নদীতীরবর্তী অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল বেপারী বলেন, “চোখের সামনে অনেকের পাকা বাড়ি নদী কেড়ে নিয়ে গেল। ফসলি জমির তো কোনো হিসাবই নেই। অবিলম্বে নদীর পাড় বাঁধাই বা নদীশাসনের ব্যবস্থা না করলে আমাদের আর রক্ষা নেই। আমরা এখন কোথায় দাঁড়াব?”
ভাঙনকবলিত এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন রোধে সাময়িক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান করা হয়নি। ফলে প্রতি বছরই তাদের একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ শাওন বলেন, “পদ্মার ভাঙনের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। সার্বিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী নদীশাসনের কাজ বাস্তবায়ন করা না হলে প্রতিবছরই ভাঙনের তীব্রতা বাড়বে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
এদিকে, পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে ঢেউখালী ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।