চরভদ্রাসন(ফরিদপুর) প্রতিনিধি-
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নে মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে গ্রাম পুলিশের এক সদস্যসহ দুই যুবকের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি ভিডিও ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি বুধবার (দুপুর ১২টার দিকে) চর হরিরামপুর ইউনিয়নের আবদুল হাই খানের হাট এলাকায় ঘটে। বৃহস্পতিবার (আজ) ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের দুটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীরা হলেন চর হরিরামপুর ইউনিয়নের সালেপুর পশ্চিম গ্রামের গ্রাম পুলিশের সদস্য লালন খান (২৬) এবং শেখ রিয়াজুল (২২)।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক খানের উপস্থিতিতে লালন খান একটি দোকানে বসে আছেন। এ সময় তাঁর হাতে দুটি সিগারেট দেখা যায়। ভিডিওতে মঞ্জুরুল হক খানকে লালনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “গাঁজা-ইয়াবা খাস কেন? কই থেকে কিনিস? তোকে শেল্টার দেয় কে?” পরে আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ট্রিমার দিয়ে লালন খানের মাথার চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে এবং শেখ রিয়াজুলের কপাল থেকে মাথার ওপরের অংশ পর্যন্ত চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মঞ্জুরুল হক খান বলেন, এলাকার কয়েকজন যুবক লালনকে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ধরে বাজারে নিয়ে আসে। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে শুধু শাসন করেছেন। তাঁর দাবি, চুল কেটে দেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দুটি তিনি দেখেছেন। কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাঁকে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের কাজ অন্যায়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল; প্রকাশ্যে কাউকে অপদস্থ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।